![]() |
| উত্তাপ্ত গ্রীস্মকাল পার করেছে বিশ্ব |
রেকর্ডে এই উষ্ণতম গ্রীষ্মে বিশ্ব তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলিও গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহের প্রাদুর্ভাবের বাইরে নয়।
ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তাপ্ত গ্রীস্মকাল পার করেছে বিশ্ব
ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল পার করেছে পুরো বিশ্ববাসী। এশিয়ার দেশগুলোতেও উষ্ণ গ্রীষ্মকালের প্রকোপের বাইরে নয় ।দুদিন আগেই হংকং নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল পার করার কথা প্রকাশ করেছে। তবে, শুধু চীনের এ শহরটি যে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল মধ্য দিয়ে গেছে তা কিন্তু নয়, কিংবা শুধু এশিয়াও দেশগুলোও যে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল পার করছে তা কিন্তু নয় - ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্মকালগুলোর মধ্যে এ বছর উষ্ণ গ্রীষ্মকাল পার করেছে পুরো বিশ্ব।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে এবারের গ্রীষ্মের উত্তাপ , তা-ও বেশ বড় ব্যবধানে এই উত্তাপ গ্রীষ্মকাল।
১৯৪০ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের "কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিসিসিএস)" বৈশ্বিক তাপমাত্রার হিসাব রাখছে। ‘সিসিসিএ’ সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়কাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তাপ গ্রীষ্মকাল।
সিসিসিএস তথ্যমতে, এ বছর গ্রীষ্মে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, ১৬ দশমিক ৭৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬২ দশমিক ১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট । ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যকার গড়ের তুলনায় ০.৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রার এবং ২০১৯ সালের রেকর্ডকৃত গড়া তাপমাত্রার চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। বিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই এমন পরিস্থিতিকে ‘অনিবার্য’ হিসাবে ধরে নিয়েছিলেন। তবে এবারই প্রথমবারের মত এ সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য মিললো।
এবারের গ্রীষ্মেকাল ভয়ংকর গরম উত্তর গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একাংশ, ইউরোপ, জাপান, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সহ প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলেছিল । এসব অঞ্চলে রেকর্ডভাঙা একের এক দাবদাহের পাশাপাশি অভূতপূর্ব হারে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা গেছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম উত্তাপ্ত মাস জুন মাস ছিল এ বছর, একই রেকর্ড গড়ে জুলাই মাসেও দেখা গেছে। ক্রমানুসারে উভয় মাসেই বিশাল ব্যবধানে আগের উষ্ণতম মাসের রেকর্ড ভেঙেছে । এ বছর সেই একই ব্যবধানে ধারা অব্যাহত রেখে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম আগস্ট মাসেও দেখা দিয়েছে।
কোপারনিকাসের তথ্যনুসারে, ২০২৩ সালের জুলাই বাদে বাকি সব মাসের চেয়ে আগস্ট মাস বেশ উত্তাপ্তাতা বজায় রেখেছে। আগস্ট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ছিল, ১৬ দশমিক ৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৬ সালের রেকর্ড গড়া তাপমাত্রার চেয়ে ০.৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
জুলাই এবং আগস্ট উভয় মাসের তাপমাত্রাই বেশি উষ্ণ ছিল, প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিজ্ঞানীরা এই মাত্রার উষ্ণ তাপমাত্রার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, উষ্ণ তাপমাত্রার এই সীমা অতিক্রম করলে পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব দেখা দিতে পারে। আবার দক্ষিণ গোলার্ধে এ বছর শীতকালও ছিল আগের তুলনায় উষ্ণতম।
এসময়ে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ এবং অ্যান্টার্কটিকায় স্বাভাবিকের চেয়ে গড় তাপমাত্রা বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু ভূপৃষ্ঠে নয়, এমনটা লক্ষ করা গেছে সামুদ্রিক অঞ্চলেও,ব্যাপকভাবে বিশ্বের সামুদ্রিক গড় তাপমাত্রাও বেড়েছে। ফল সরুপ ভাবে দেখা গেছে আটলান্টিকের হারিকেন শক্তিশালী হয়েছে এবং এমনটা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টাইফুনগুলো।
কোপার্নিকাস জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিনই সামুদ্রিক গড় তাপমাত্রার রেকর্ড, ২০১৬ সালে গড়া আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় ২০২৩ সাল উষ্ণতা, পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার হয়নি। তবে এ উষ্ণতা যে রেকর্ড তাপমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে, তা নিশ্চিত।
বছরের চার মাস বাকি থাকতেই, ইতিমধ্যে ২০২৩ সাল পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম বছরের স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৬ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার থেকে মাত্র ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে রয়েছে ২০২৩ সালের রেকর্ড তাপমাত্রা।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এল নিনোর প্রভাবে আগামী বছর এর চেয়েও উষ্ণ হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন

